দৈনিক পল্লী বাংলা
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

বাংলাদেশে ন্যানোপ্রযুক্তির সম্ভাবনা

কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও শিল্পখাতে বাংলাদেশে ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে; তবে নীতিগত জটিলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে। যদিও এআইইউবি (AIUB)-এর সিএনআর (CNR) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো গবেষণা কেন্দ্রগুলো গড়ে উঠছে, তবুও একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিলম্বের ফলে মেধাপাচার (brain drain) ও সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।বাংলাদেশে ন্যানোপ্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা1.সরকারি স্বীকৃতি: 'প্রেসপেক্টিভ প্ল্যান ২০২১–২০৪১' এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ আইসিটি মাস্টার প্ল্যান ২০৪১'-এ ন্যানোপ্রযুক্তিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।2.গবেষণা কেন্দ্রসমূহ: সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজি রিসার্চ (সিএনআর), এআইইউবি (প্রতিষ্ঠা: ২০২০) ন্যানোইলেকট্রনিক্স, ন্যানোমেডিসিন, ন্যানো-কৃষি এবং গ্রিন ন্যানোটেকনোলজির ওপর গুরুত্বারোপ করে।বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি): সাভারে একটি ন্যানোপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও বাজেট ও নীতিগত বিতর্কের কারণে এর অগ্রগতি থমকে আছে।পাইলট প্রকল্প: অ্যাক্রাইলিক পলিমার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিলেটে ন্যানোপ্রযুক্তি-ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব সড়ক নির্মাণ।প্রধান সম্ভাবনাসমূহ১. কৃষি: টেকসই উপায়ে ফসলের ফলন বাড়াতে ন্যানো-সার। পরিবেশের ওপর প্রভাব কমিয়ে নিখুঁত বা সুনির্দিষ্ট কৃষিকাজের (Precision farming) জন্য ন্যানো-কীটনাশক। গ্রামীণ বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সম্ভাবনা।২. স্বাস্থ্যসেবা : ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় সুনির্দিষ্টভাবে ওষুধ প্রয়োগ (Targeted drug delivery)। ডায়াবেটিস, ফুসফুসের রোগ এবং অন্যান্য জটিল শারীরিক অবস্থা দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ন্যানো-সেন্সর। পোশাক ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বা জীবাণু-প্রতিরোধী কাপড় তৈরি।৩. জ্বালানি ও পরিবেশ : সৌরকোষের (Solar cells) কার্যকারিতা বাড়াতে ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার। পানি বিশুদ্ধকরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ন্যানো-ফিল্টার। ন্যানো-ক্যাটালিস্ট বা প্রভাবক ব্যবহার করে পানি বিভাজনের মাধ্যমে হাইড্রোজেন উৎপাদনের সম্ভাবনা।৪. শিল্প ও আইসিটি (ICT) : পোশাক শিল্পে স্মার্ট টেক্সটাইল বা প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ কাপড়ের ব্যবহার। আইসিটি উদ্ভাবনের জন্য নমনীয় ইলেকট্রনিক্স (flexible electronics) এবং কোয়ান্টাম যোগাযোগ ব্যবস্থা। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান।সম্ভাবনা বনাম চ্যালেঞ্জসম্ভাবনা : ন্যানো-সারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি জাতীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে নীতিগত বিলম্ব । ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তি । স্মার্ট টেক্সটাইল ও আইসিটি উদ্ভাবন আমদানিকৃত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা ।চ্যালেঞ্জ  : উন্নত স্বাস্থ্যসেবা রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রয়োগ তহবিল ও অবকাঠামোর অভাব । তরুণ বিজ্ঞানীদের দেশত্যাগের (ব্রেইন ড্রেইন) ঝুঁকি । পানি বিশুদ্ধকরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতার অভাব । ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা : নীতিগত জটিলতা দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। মেধা পাচার (Brain drain): সুযোগের অভাবে প্রতিভাবান গবেষকরা দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়: অনেক প্রয়োগই এখনও পাইলট বা গবেষণাগারের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। আমদানির ওপর নির্ভরতা: বর্তমান প্রকল্পগুলো প্রায়শই স্থানীয় উদ্ভাবনের পরিবর্তে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।উপসংহার : ন্যানো-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির খাতে—যা দেশের এসডিজি (SDG) ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এই সুবিধাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে দেশকে নীতি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো না নিলে বাংলাদেশ এমন একটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যা তার অর্থনীতি ও টেকসই ভবিষ্যতের রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম।

বাংলাদেশে পিকেএল (PKL) বিদ্যুতের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার জন্য সৌরশক্তির একটি সাশ্রয়ী এবং দিন-রাত ও বর্ষাকালেও কার্যকর বিকল্প হিসেবে 'পাথরকুচি পাতা' বা PKL (Pathor Kuchi Leaf) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তবে এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর দক্ষতা, বড় পরিসরে প্রয়োগযোগ্যতা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। গবেষকরা বিদ্যুৎ-সংযোগহীন (অফ-গ্রিড) এলাকায় সহায়তা প্রদান, মোবাইল চার্জিং এবং এলইডি (LED) বাতি জ্বালানোর ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন; তবে ব্যাপক ব্যবহারের জন্য এর আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।বাংলাদেশে PKL বিদ্যুতের গুরুত্ব ১. গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের ঘাটতি: বাংলাদেশে এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগহীন গ্রামগুলোতে।২. সৌরশক্তির (SPV) সীমাবদ্ধতা: সৌরশক্তি রাত ও বর্ষাকালে কাজ করে না; এক্ষেত্রে চকখ-এর নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা একটি বড় সুবিধা।৩. স্থানীয় উদ্ভাবন: PKL বিদ্যুৎকে অনেক সময় "বাংলা বিদ্যুৎ" বলা হয়, কারণ এটি সর্বপ্রথম বাংলাদেশে উদ্ভাবন করেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আলম খান।প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা১. শক্তির উৎস: PKL বা পাথরকুচি পাতায় (বৈজ্ঞানিক নাম: Bryophyllum pinnatum) ম্যালিক, সাইট্রিক ও আইসো-সাইট্রিকের মতো জৈব অ্যাসিড থাকে, যা ইলেক্ট্রোলাইট বা বিদ্যুৎ-পরিবাহী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।২. ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল বা তড়িৎ-রাসায়নিক বিন্যাস: সাধারণত পাথরকুচি পাতার নির্যাস বা রসের সাথে জিঙ্ক (Zn) ও কপার (Cu)-এর ইলেকট্রোড ব্যবহার করা হয়।কার্যক্ষমতা:১. ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য ১ কিলোওয়াট (kW) ক্ষমতার PKL মাইক্রো-পাওয়ার সিস্টেম পরীক্ষা করা হয়েছে।২. সৌরশক্তির বিপরীতে এটি দিন ও রাত উভয় সময়েই কাজ করে।৩. এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন, এলইডি বাতি এবং ছোটখাটো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব।দক্ষতা: গবেষণায় দেখা গেছে যে এর শক্তি রূপান্তরের দক্ষতা প্রায় ৬৫% এবং অভ্যন্তরীণ রোধ (internal resistance) প্রায় ০.৬ ওহম।তুলনামূলক পর্যালোচনা: PKL বনাম সোলার পিভি (Solar PV) বৈশিষ্ট্য সোলার পিভি PKL বিদ্যুৎ কার্যকারিতা শুধুমাত্র দিনের বেলা দিন-রাত ও সব আবহাওয়ায় বর্ষাকালে নির্ভরযোগ্যতা কম স্থিতিশীল খরচ প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি কম খরচ, স্থানীয়ভাবে লভ্য সম্প্রসারণযোগ্যতা বৈশ্বিকভাবে প্রমাণিত উদীয়মান ক্ষুদ্র পরিসর ব্যবহারের ক্ষেত্র গৃহস্থালি, শিল্প, গ্রিড গ্রামীণ অফ-গ্রিড এলাকা, মোবাইল চার্জিং সীমাবদ্ধতা সূর্যালোক ও স্টোরেজ ব্যাটারির প্রয়োজন                দক্ষতা ও স্থায়িত্বজনিত সমস্যা  চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি১. পরীক্ষামূলক পর্যায়: PKL এখনও বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়নি।২. দক্ষতা সংক্রান্ত উদ্বেগ: সময়ের সাথে ভোল্টেজ ও কারেন্ট কমে যায়; অভ্যন্তরীণ রোধ (internal resistance) আদর্শ মানের চেয়ে বেশি।৩. স্থায়িত্ব: PKL সেলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা উন্নয়নের প্রয়োজন।৪. সম্প্রসারণযোগ্যতা: বর্তমান ব্যবস্থাগুলো ক্ষুদ্র পরিসরের; শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার অনিশ্চিত।ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা১. গ্রামীণ ক্ষমতায়ন: PKL গ্রামের যোগাযোগ, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।২. হাইব্রিড ব্যবস্থা: সোলারের সাথে PKL -এর সমন্বয় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পারে।৩. উপজাত পণ্য: PKL সেল থেকে জিঙ্ক বর্জ্য (যা সার হিসেবে ব্যবহারযোগ্য) ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা অর্থনৈতিক মূল্য যোগ করে।৪. গবেষণার দিক: দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রোধ কমানো এবং কমিউনিটি-স্তরের গ্রিড পর্যন্ত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া ।সারসংক্ষেপ বাংলাদেশের গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে PKL বিদ্যুৎ একটি সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন; যেখানে সোলার ব্যবস্থা হিমশিম খায়, সেখানে এটি নিরবচ্ছিন্ন ও কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। তবে, মূলধারার জ্বালানি সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে একে দক্ষতা ও সম্প্রসারণযোগ্যতা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
রাজনৈতিক দলগুলোর রাজপথের কর্মসূচি (যেমন অবরোধ বা লংমার্চ) কি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে ?

রাজনৈতিক দলগুলোর রাজপথের কর্মসূচি (যেমন অবরোধ বা লংমার্চ) কি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে ?

  হ্যাঁ, কর্মসূচি পালনে ভিন্ন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ের পথ খোঁজা উচিত
  না, দাবি আদায়ের জন্য রাজপথের কর্মসূচি স্বাভাবিক
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
১

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

২

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল

৩

সরকারি খরচে ৪ লাখ ৮৬ হাজার মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান

৪

সুস্থতার পথে পোপ চতুর্দশ লিও, ভ্যাটিকানের ছাড়পত্রের অনুমোদন

৫

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ১৬ নভেম্বর, ফি নির্ধারণ

৬

জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করতে মুখিয়ে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা

৭

ছেউড়িয়ায় লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

৮

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

৯

ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত ১০

১০

গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার

সর্বশেষ সব খবর
১

চর ঝাউকান্দায় বন্যাদুর্গত ও প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

২

বাংলাদেশে ন্যানোপ্রযুক্তির সম্ভাবনা

৩

বন্ধের সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল জামালপুরের যমুনা সার কারখানা

৪

বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব, তাই শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট ধরা হয়েছে বেশি -মজিবুর রহমান

৫

গাজীপুরে ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

৬

রাস্তার দু-পাশে জঙ্গল পরিস্কার করছে পুলিশ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ

৭

বাংলাদেশে পিকেএল (PKL) বিদ্যুতের সম্ভাবনা

৮

নৈরাজ্য ঠেকাতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

৯

বাগেরহাটে ফ্যামিলি কার্ডে তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স

১০

জিসিসির কাউলতিয়া অঞ্চল -৫ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের শুভ সুচনা

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!
“
১ দিন আগে

মো. নূরুল ইসলাম
মো. নূরুল ইসলাম
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য

জাতীয়

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব”— শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনের পর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সেখানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্তদের সাথে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ যুগান্তর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব নিদর্শন বহন করে আসছে। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পে এই সম্প্রীতির মেলবন্ধন বিদ্যমান। স্বাধীনতার পূর্বে ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেভাবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে লড়েছেন, সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।বাংলাদেশে ভেদাভেদ সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয় এবং কখনো চরম পন্থায় বিশ্বাস করে না। একটি অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাত্রা করেছি। জাতীয় সমস্যাগুলো পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করে আমাদের এই প্রক্রিয়া ধৈর্য সহকারে এগিয়ে নিতে হবে।”সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন যুক্তিযুক্ত দাবি পূরণের আশ্বাস দেন এবং শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পূজা উদযাপনের আশা ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বক্তব্য রাখেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন তিনি। এর অংশ হিসেবে মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশের নিবিড় সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল দেশ হওয়ার কারণে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সবাইকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রথম ও প্রধান কাজ।ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা ও পানি জমতে না দেওয়াই এর প্রধান প্রতিকার। এ লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাটে ময়লা না ফেলার জন্য বিএনসিসি ও স্কাউটদের গণসচেতনতা তৈরি এবং ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান তিনি।পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের নাগরিক অভ্যাসের উদাহরণ টেনে এবং আরাফাতের ময়দানে গাছ রোপণের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুয়েটের উদ্ভাবিত বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত

কুয়েটের উদ্ভাবিত বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত

মানববর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের এই অভিনব প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রদর্শনীতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিস্তারিত জানান। গবেষকরা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের গবেষণার পর ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে সফলভাবে ‘বায়োক্রুড’ বা জৈব অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে তাঁরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। গবেষণাগারের পরীক্ষায় এতে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড বা ডিজেলসমৃদ্ধ তেল পাওয়ার সফলতা মিলেছে।পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরে গবেষকরা জানান, প্রস্তাবিত এই প্ল্যান্ট বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল করা গেলে দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন দেশের জ্বালানি সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় সমস্যার সমাধান হবে, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের মূল দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের মূল দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, “জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের পূর্ণ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য নয়, বরং তাদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।”মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন), স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “গ্রামাঞ্চলের স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি সামান্য জন্ম নিবন্ধনের সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরছেন—এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্যই হবে জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করা। শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সেবা হয় না, প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”তিনি আরও বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সঠিক ডাটাবেজ জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার চেয়ে নিবন্ধন ডাটাবেজে তথ্য বেশি থাকা উদ্বেগের বিষয়। আগামীতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ধরনের অসঙ্গতি দূরীকরণে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশে বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও জাতীয় সামাজিক কাঠামোর পেছনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

 রাজনীতি রাজনীতি

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল

মানবসবেমুখী অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রোববার (১৮ অক্টোবর)। দিনটি পালন উপলক্ষ্যে মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংগঠনের পরিচালক ও ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেল ৫টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে অতিথিদের আসন গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।এর আগে দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় চন্দ্রিমা উদ্যানস্থ জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে জেডআরএফ-এর সকল স্তরের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে থেকে নানা সামাজিক ও মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

৮ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 খেলা খেলা

জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করতে মুখিয়ে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা

জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করতে মুখিয়ে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা

ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে শুভসূচনা করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে স্বাগতিক পাকিস্তান ও সফরকারী শ্রীলংকা। রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি শুরু হবে।ত্রিদেশীয় এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন বাঁ-হাতি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। এই সিরিজ দিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ পেসার রাজাউল্লাহ। অপরদিকে, টি-টোয়েন্টির পর এবার ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে পাক অধিনায়ক আফ্রিদি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা। প্রথম ম্যাচ জিতলে পরবর্তী পথচলা সহজ হয়।”অন্যদিকে, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা এবং অফফর্মের কারণে সাবেক অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কাকে ছাড়াই মাঠে নামছে শ্রীলংকা। নিশাঙ্কার পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন লাহিরু উদারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস বলেন, “আমরা জয় দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাই। স্বাগতিক হিসেবে পাকিস্তান শক্তিশালী দল হলেও জয়ের জন্য আমরা সেরাটা দেব।”টুর্নামেন্টের লিগ পর্বের ম্যাচগুলো রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের।পাকিস্তান দল:শাহীন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আরাফাত মিনহাস, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হারিস রউফ, হাসান নাওয়াজ, গাজী ঘোরি, নাসিম শাহ, রাজাউল্লাহ, সাদ বেইগ (উইকেটরক্ষক), সালমান আগা, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান ও সুফিয়ান মুকিম।শ্রীলংকা দল:কুশল মেন্ডিস (অধিনায়ক), লাহিরু উদারা, আভিশকা ফার্নান্দো, কামিল মিশারা, পাভান রত্ননায়েকে, সাহান আরাচ্চিগে, কামিন্দু মেন্ডিস, জনিথ লিয়ানাগে, দাসুন শানাকা, দুনিথ ওয়েলালাগে, মহেশ থিকশানা, সচিন্দু কলম্বাগে, দুশমন্ত চামিরা, আসিথা ফার্নান্দো, দিলশান মাদুশঙ্কা ও এশান মালিঙ্গা।

৯ ঘণ্টা আগে

 বিনোদন বিনোদন

ছেউড়িয়ায় লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ / ছেউড়িয়ায় লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

একটি গানও নিজ হাতে লিখে না রেখেও মৃত্যুর দীর্ঘ ১৩৬ বছর পর ভক্তদের কণ্ঠে ও হৃদয়ে পরম মমতায় বেঁচে আছেন মরমি সাধক ও মানবতাবাদী দার্শনিক ফকির লালন সাঁই। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে তাঁর তিন দিনব্যাপী তিরোধান স্মরণোৎসব। আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।জাতপাত ও ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া লালন সাঁই ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর) ছেউড়িয়ার আখড়ায় প্রয়াণ লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই অনুসারীরা প্রতিবছর ১ কার্তিক দিনটিকে তিরোধান দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। অধিবাস সেবার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রচলিত প্রাচীন সাধুরীতি মেনে অষ্টপ্রহরের সাধুসঙ্গ, বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো ভক্ত ও অনুসারীর পদচারণায় এখন মুখরিত ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। আখড়া চত্বরে নিজেদের ঘরানায় ছোট ছোট আসর বসিয়ে দোতারা ও একতারার সুরে সুরে সাঁইজির বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাধুরা। প্রবীণ সাধকদের মতে, বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, সহজ মানুষের সহজ আনন্দ ও আত্মশুদ্ধির সাধুসঙ্গের মধ্যেই এ উৎসবের আসল তাৎপর্য নিহিত।মাজার প্রাঙ্গণে সাধুসঙ্গের পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে লালন একাডেমি চত্বরে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও লোকসংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। আলোচনা সভা শেষে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মূল মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে দেশবরেণ্য বাউল শিল্পীদের লালন সংগীত। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ছেউড়িয়া এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ওস্তাদ জানু খাঁ ও মাসুদ করিমের নতুন মিউজিক ভিডিও ‘আলো আঁধারি’ প্রকাশিত

ওস্তাদ জানু খাঁ ও মাসুদ করিমের নতুন মিউজিক ভিডিও ‘আলো আঁধারি’ প্রকাশিত

দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিয়েটিভ প্রোডাকশন হাউস 'ড্রিমমেকার এন্টারটেইনমেন্ট'-এর ব্যানারে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ওস্তাদ জানু খাঁ ও মাসুদ করিমের নতুন মৌলিক মিউজিক ভিডিও "আলো আঁধারি"। উপমহাদেশের বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ওস্তাদ জানু খাঁর সুমধুর কণ্ঠে গাওয়া এ গানটির কথা, সুর ও সিনেমাটিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন শিল্পী ও নির্মাতা মাসুদ করিম।বর্তমান দ্রুতগতির বাণিজ্যিক গানের ভিড়ে "আলো আঁধারি" শ্রোতাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ক্লাসিক্যাল ও আত্মোপলব্ধির এক গভীর মেলোডিয়াসের আবহে । সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েন, মনের ভেতরের না-বলা বেদনা এবং মানুষের জীবনের আলো ও আঁধারের লুকোচুরি খেলাকে কেন্দ্র করে গানটি সাজানো হয়েছে ।গানটি প্রসঙ্গে গীতিকার ও নির্মাতা মাসুদ করিম বলেন, সম্পর্কের আলো-আঁধারি ও নীরব ভুল বোঝাবুঝির মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন থেকেই গানটির জন্ম। ওস্তাদ জানু খাঁর কালজয়ী গায়কী এতে এক অনন্য পূর্ণতা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল ও সিনেমাটোগ্রাফির মাধ্যমে নির্মিত এই মিউজিক ভিডিওটিতে একাকীত্ব ও সম্পর্কের অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার

চলতি বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার কোনো চীনা বা ক্যারিবীয় নারী লেখকের হাতে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন সাহিত্য সমালোচকেরা। ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের আধিক্য থাকা এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে আরও বৈচিত্র্য আনার ধারাবাহিকতায় এবারও তেমন সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রতিবছরের মতো নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের কোনো প্রকাশ্য সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় না। পুরস্কার প্রদানকারী ১৮ সদস্যের সুইডিশ একাডেমির মনোনয়ন ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা দীর্ঘ ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। ফলে নাম ঘোষণার আগে প্রতিবারই স্টকহোমের সাহিত্যাঙ্গনে সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। আগামী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা) এবারের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।এবারের আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন অ্যান্টিগুয়া-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেইড (৭৭)। ক্যারিবীয় সংস্কৃতি, পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচয়, ঔপনিবেশিকতা ও বর্ণবৈষম্য নিয়ে লেখার জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত। অন্যদিকে, চীনের পরীক্ষাধর্মী লেখক কান শুয়েকেও শক্তিশালী দাবিদার মনে করা হচ্ছে, যাঁর লেখার ঢং প্রখ্যাত সাহিত্যিক ফ্রানৎস কাফকার সঙ্গে তুলনা করা হয়।সুইডেনের প্রভাবশালী দৈনিক 'ডাগেনস নিহেটার'-এর সংস্কৃতি সম্পাদক বিওর্ন উইমান ও 'এক্সপ্রেসেন'-এর সাহিত্য সমালোচক ভিক্টর মালম এএফপিকে জানান, জ্যামাইকা কিনকেইডের এই পুরস্কার পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর ১৯৯০ সালের বিখ্যাত উপন্যাস 'লুসি'র মতো সাহিত্যকর্ম নোবেল পাওয়ার স্পষ্ট যোগ্যতা রাখে।উল্লেখ্য, ১৯০১ সালে চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া ১২২ জন বিজয়ীর মধ্যে নারী মাত্র ১৮ জন। গত বছর হাঙ্গেরির পুরুষ লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাইকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের সংকট কাটিয়ে ওঠার পর থেকে প্রতি দুই বছর পরপর একজন নারী লেখককে নোবেল দেওয়ার একটি প্রবণতা দেখা গেছে। সেই হিসেবে এবারও কোনো নারী লেখকের নোবেল পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন বোদ্ধারা। তবে সুইডিশ একাডেমি বারবারই বলে আসছে, লিঙ্গ বা আঞ্চলিক পরিচয় নয়—মানসম্পন্ন সাহিত্যকর্মই তাদের একমাত্র বিবেচ্য।

বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার

ওটিটিতে যা দেখবেন

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘এয়ার ফোর্স এলিট: থান্ডারবার্ডস’। এতে দেখা যাবে মার্কিন বিমান বাহিনীর থান্ডারবার্ডস ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের ভেতরের দৃশ্য। ডকুমেন্টরিটি নির্মাণ করেছেন ম্যাট উইলকক্স।বিঞ্জে দেখা যাচ্ছে নাটক ‘নিষিদ্ধ বাসর’। এটি পরিচালনা করেছেন নুরুল আলম আতিক। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মনোজ প্রামাণিক, শিল্পী সরকার অপু প্রমুখ।বঙ্গতে দেখা যাচ্ছে নাটক ‘টাকার মেশিন’। নির্মাণ করেছেন কামরুল জিন্নাহ। এতে অভিনয় করেছেন রাকিব হোসেইন ইভন, অশোক বেপারী, মোমেনা চৌধুরী, আরফান মৃধা শিবলু, ইমেল হক প্রমুখ। হইচইতে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘বিষহরি’। এটি নির্মাণ করেন সৃজিত রয়। এতে অভিনয় করেন সোলাঙ্কি রয়, রোহান ভট্টাচার্য, শঙ্কর চক্রবর্তী, কৌশিক রয় প্রমুখ।আইস্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে নাটক ‘দূর্ঘটনা কবলিত স্বামী’। এটি পরিচালনা করেছেন জাকিউল ইসলাম রিপন। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ ও সাফা কবির প্রমুখ।

ওটিটিতে যা দেখবেন

কান-এর আলোচিত পাঁচ সিনেমা

সারা বিশ্বই এখন অবরুদ্ধ গাজার প্রতিদিনের ছবি দেখতে পাচ্ছে। গাজাবাসীর বর্তমান দুর্দশাগ্রস্ত সাম্প্রতিক সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে ধারণা আগামই তুলে ধরেছিলেন জমজ দু’ভাই টারজান নাসের ও আরব নাসের। ২০০৭ সালের পটভূমিতে নির্মিত একটি অপরাধ থ্রিলার হুবহু বর্তমানের চিত্র তুলে ধরেছে- এটাই সিনেমার সার্থকতা। দোকানের মালিক ওসামা এবং উন্নত জীবনের স্বপ্নে বিভোর ইয়াহিয়ার জীবনযন্ত্রণাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সিনেমার গল্প। কিন্তু হাসাস ও দখলদার ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দ্বন্দ্বে ভেঙে চুরমার হয় ইয়াহিয়ার মতো হাজারো গাজাবাসীর স্বপ্ন। আন সার্টেইন রিগার্ড ক্যাটাগরিতে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয় উৎসবে।আয়েশা ক্যান’ট ফ্লাই অ্যাওয়ে 

কান-এর আলোচিত পাঁচ সিনেমা

‘আমি শাকিব খানের মতো হতে চাই’

শাকিব খানের এই অর্জনকে ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সেই তালিকায় ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনাও।একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের দুটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার থেকে আসার পথে নিজের এই ছবিটা নিজেই তুললাম, মনে মনে অনেক কিছু ঠিক করার পর মনে হলো এই মুহূর্তের ছবি তুলে রাখি। আজকের (গতকালের) অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ শাকিব খান। তার ক‍্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি। কী বিশাল আনন্দের কথা। ২৫ বছর। শেষ পুরস্কারটি ছিল সেরা অভিনেতার, শাকিব খান জিতে নিলেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার এবং তিনি স্টেজে যে কথাগুলো বললেন, তা হাঁ করে শুনছিলাম আমি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘পাশের মানুষরাই নাকি বলেছিলেন আরে তুমি এখন ডেড হর্স।’ আসলে একজন শিল্পী ভীষণ একা। কারণ শিল্পী তার দর্শকের কথা ভেবে কাজ করে যান আর শাকিব খানের মতো মেগাস্টার হতে হলে অনেক ধৈয‍্য, অনেক সাধনার প্রয়োজন।’নিজেও শাকিব খানের মতো হতে চান জানিয়ে ভাবনা লেখেন, ‘শাকিব খান, আপনার কাছ থেকে আমি আজকে অনেক অনুপ্রেরণা নিয়ে ফিরলাম। একজন অভিনেতা শাকিব খান আমাকে মুগ্ধ করেছে আরো একবার। সব তাচ্ছিল্য, অপমান, মিথ্যা অপবাদ, মিডিয়া ট্রায়াল। কত শত বাদ পড়ে যাওয়া একদিন সুদে আসলে ফিরিয়ে দেবে আমাকে আমার কর্ম। আমি কাজের মাধ্যমেই আপনার সামনে আসব। আবারও বলি। আমি শাকিব খানের

‘আমি শাকিব খানের মতো হতে চাই’
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

সাহিত্য

রাজা রমেন্দ্র নারায়ণ রায় এর শেষ পরিণতি যিনি ভাওয়াল সন্ন্যাসী নামে অধিকতর খ্যাত

রাজা রমেন্দ্র নারায়ণ রায় এর শেষ পরিণতি যিনি ভাওয়াল সন্ন্যাসী নামে অধিকতর খ্যাত

পরিচয় : রমেন্দ্র নারায়ণ রায় ভাওয়াল এস্টেটের দ্বিতীয় কুমার (রাজপুত্র) ছিলেন, যিনি "মেজো কুমার" নামে পরিচিত ছিলেন।জীবনযাপন : ১৮৮৪ সালের ২৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিকার ও ভোগ-বিলাসে অভ্যস্ত ছিলেন এবং ১৯০৫ সালের দিকে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।আপাত মৃত্যু : ১৯০৯ সালের ৭ মে দার্জিলিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দাবি করা হয়েছিল, পিত্তথলির সমস্যায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং পরদিন তার মৃতদেহ দাহ করা হয়।ফিরে আসা ও দীর্ঘ আইনি লড়াই।সন্ন্যাসীর বেশে আবির্ভাব : মৃত্যুর ১২ বছর পর ১৯২১ সালে ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধে এক হিন্দু সন্ন্যাসী আবির্ভূত হন, যিনি দেখতে রমেন্দ্রের মতোই ছিলেন।নিজেকে রাজ কুমার দাবি : ওই সন্ন্যাসী দাবি করেন, দার্জিলিংয়ে তাকে বিষ দেয়া হয়েছিল এবং দাহ করার সময় শিলাবৃষ্টির কারণে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে হিমালয়ের সন্ন্যাসীরা তাকে সুস্থ করে তোলেন।মামলা : ১৯৩০ সালে তিনি নিজেকে প্রকৃত রমেন্দ্র নারায়ণ রায় হিসেবে দাবি করে মামলা করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে তিনি তার শৈশবের দুধমা'র নাম বলতে পারায় অনেকেই তাকে চিনতে পারেন।রায় : নিম্ন আদালত তার পক্ষে রায় দিলেও রানী বিভাবতী দেবী আপিল করেন। শেষে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত মামলা গড়ায়।ঐতিহাসিক তাৎপর্য :তৎকালীন প্রভাব : ভাওয়াল এস্টেট ছিল তৎকালীন বাংলার অন্যতম বৃহৎ জমিদারি (প্রায় ৫৭৯ বর্গমাইল)। রমেন্দ্রের মৃত্যুর পর এস্টেটটি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে চলে যায়।সাংস্কৃতিক প্রভাব : এই ঘটনা বাংলার সাহিত্য ও সিনেমায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। "সন্ন্যাসী রাজা" (উত্তম কুমার অভিনীত) এবং "এক যে ছিলো রাজা" (শ্রীজিৎ মুখার্জি পরিচালিত) সিনেমা এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই নির্মিত।ঘটনার শেষ পরিণতি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলের চূড়ান্ত রায়ে সন্ন্যাসীর পক্ষে রায় আসে, কিন্তু সেই রায়ের আনন্দ তিনি বেশিদিন উপভোগ করতে পারেননি।চূড়ান্ত রায় ও মৃত্যু।প্রিভি কাউন্সিলের রায় : ১৯৪৬ সালের ৩০ জুলাই লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিল রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয় যা পূর্ববর্তী আদালতের রায়কে বহাল রাখে।মৃত্যু : রায়ের খবর পেয়ে তিনি কলকাতার ঠানঠানিয়া কালী মন্দিরে পূজা দিতে যান। সেখান থেকে বেরোনোর সময় তার স্ট্রোক হয় এবং দুই দিন পর অর্থাৎ ১৯৪৬ সালের ৩১ জুলাই বা তার কিছু পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার দাবিতে জয়ী হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই জয় উপভোগ করার সুযোগ পাননি।