কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে; তবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মতো সব অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকের এই র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।” এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত নেড়ে ও মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে জোরালো সমর্থন জানান।দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। কদম ফোয়ারা থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে তারা র্যালিতে অংশ নেন।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “৭ নভেম্বর হলো জাতীয় ঐক্যের দিন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন। দেশের ভেতর ও বাইরে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। একটি পক্ষ দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে এবং পুনরায় আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু সে সুযোগ আর দেওয়া হবে না।” এ সময় তিনি “দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” স্লোগান ধরেন।তিনি বলেন, “যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র্যালিতে যোগ দেন এবং সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
বিনোদন
বাংলাদেশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সমতল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকায় একসময় প্রচুর নীলগাই অবাধে বিচরণ করত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক বিলুপ্ত থাকার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও পঞ্চগড় অঞ্চলে বেশ কিছু নীলগাই প্রবেশ করে।ওই সময়ে বাংলাদেশ বন বিভাগ নীলগাইগুলোকে উদ্ধার করে দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন পশু নিধন এলাকায় কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংরক্ষণের চেষ্টা চালায়।এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে সাফারি পার্কে নীলগাই সংরক্ষণ শুরু করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষ। আর এ নীলগাই পরিবারে এরই মধ্যে যোগ হয়েছে ৪ নতুন নীলগাই শাবক। প্রায় এক মাস পূর্বে কোর সাফারি অংশে এগুলোর জন্ম হলেও সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিচর্যার স্বার্থে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনেনি কর্তৃপক্ষ। নতুন এ অতিথিদের আগমনে সাফারি পার্কে আসা দর্শনার্থী, বিশেষ করে শিশুদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।পার্ক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোর সাফারির হরিণ সাফারি এলাকায় ৪ শাবকসহ নীলগাইয়ের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। নতুন জন্ম নেয়া শাবকগুলো বর্তমানে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে। মায়ের দুধ পানের পাশাপাশি এগুলো কোর সাফারির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে ছোটাছুটি ও খুনসুটি করে সময় পার করছে। তবে বয়স কম থাকায় এখনো এদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ ৪ সদস্য যুক্ত হওয়ায় পার্কে নীলগাইয়ের বর্তমান মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ বলেন, প্রায় মাসখানেক আগে প্রথম বাচ্চাগুলোর দেখা মেলে। সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ মাধ্যমে এটি জানানো হয়নি। বর্তমানে শাবকগুলো সম্পূর্ণ সুস্থ আছে এবং সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।অনুরূপ তথ্য নিশ্চিত করে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ৪টি শাবক একসাথে ঘুরে বেড়ানো ও খেলাধুলা করার দৃশ্য আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। নতুন এই প্রাণিদের দেখে দর্শনার্থী এবং শিশুরা বেশ আনন্দ পাচ্ছে।উল্লেখ্য, নীলগাই হলো এশিয়ার বৃহত্তম হরিণজাতীয় (অ্যান্টিলোপ) বন্যপ্রাণি। হিন্দি শব্দ ‘নীল’ এবং ‘গাই’ (গাভী) থেকে এর নামকরণ হয়েছে নীলগাই। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নীলগাইয়ের গায়ের চামড়া কালচে নীলচে-ধূসর রঙের হয়, যা থেকে এ নামের উৎপত্তি।
‘আমার অন্তরায় আমার কলিজায়’ কিংবা ‘নির্জন যমুনার কূলে’র মতো অগণিত কালজয়ী গানের স্রষ্টা, ‘জ্ঞানের সাগর’ খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মরমী বাউল সাধক দুর্বিন শাহের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে (২ নভেম্বর) তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক থানার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন এই সাধক।সুফি সাধক পিতা সফাত আলি শাহ ও মা পীরানী হাসিনা বানুর ঘর আলোকিত করে বেড়ে ওঠা দুর্বিন শাহ পারিবারিক সূত্রেই আধ্যাত্মিক আবহ ও সঙ্গীতচর্চার আবহ পান। তিনি শুধু একজন গীতিকার বা বাউলশিল্পীই ছিলেন না; ছিলেন মরমী দর্শন, দেহতত্ত্ব, মারফতি ও মানবাধিকারের এক বিরল ভাবুক। বাউল, বিচ্ছেদ, ভাটিয়ালি, মারফতি, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী ও সুফিতত্ত্বের পাশাপাশি তিনি দেহতত্ত্ব ও স্বদেশের গানসহ বৈচিত্র্যময় ধারায় অগাধ সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে বিশিষ্ট বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমকে সঙ্গে নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে যান দুর্বিন শাহ। সেখানে তাঁর গানের গভীরতা, আধ্যাত্মিক ভাব ও অপূর্ব সুরমূর্ছনায় মুগ্ধ হয়ে প্রবাসী সঙ্গীতপ্রেমীরা তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন।১৯৭৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ৩ ফাল্গুন) ৫৭ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কালজয়ী এই গীতিকবি।দুর্বিন শাহের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সুনাসগঞ্জের জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল জানান, মরমী গীতিকবি দুর্বিন শাহের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) কে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২৭ আগস্ট একই আদালত এই মামলায় তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এই হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মে ফেয়ার বিউটি পার্লারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মানবতার কবি ও বাউলসম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শেরপুরে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক আরিফা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া।আলোচনা সভায় বক্তারা লালন সাঁইয়ের কালজয়ী জীবনদর্শন, কালচারাল ঐতিহ্য ও মানবতাবাদী চিন্তার নানা দিক আলোকপাত করেন। তারা বলেন, লালন সাঁই তাঁর ভাবসংগীত ও দর্শনের মাধ্যমে জাতি, ধর্ম ও বর্ণগত ভেদাভেদ ভুলে সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান গেয়ে গেছেন। তাঁর এই প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক অদ্বৈত চেতনা আজও আমাদের সমাজে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।আলোচনা পর্ব শেষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা লালন সাঁইয়ের অমর গান ও ঐতিহ্যবাহী বাউলসংগীত পরিবেশন করেন।
একটি গানও নিজ হাতে লিখে না রেখেও মৃত্যুর দীর্ঘ ১৩৬ বছর পর ভক্তদের কণ্ঠে ও হৃদয়ে পরম মমতায় বেঁচে আছেন মরমি সাধক ও মানবতাবাদী দার্শনিক ফকির লালন সাঁই। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে তাঁর তিন দিনব্যাপী তিরোধান স্মরণোৎসব। আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।জাতপাত ও ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া লালন সাঁই ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর) ছেউড়িয়ার আখড়ায় প্রয়াণ লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই অনুসারীরা প্রতিবছর ১ কার্তিক দিনটিকে তিরোধান দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। অধিবাস সেবার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রচলিত প্রাচীন সাধুরীতি মেনে অষ্টপ্রহরের সাধুসঙ্গ, বাল্যসেবা ও পূর্ণসেবা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো ভক্ত ও অনুসারীর পদচারণায় এখন মুখরিত ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। আখড়া চত্বরে নিজেদের ঘরানায় ছোট ছোট আসর বসিয়ে দোতারা ও একতারার সুরে সুরে সাঁইজির বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাধুরা। প্রবীণ সাধকদের মতে, বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, সহজ মানুষের সহজ আনন্দ ও আত্মশুদ্ধির সাধুসঙ্গের মধ্যেই এ উৎসবের আসল তাৎপর্য নিহিত।মাজার প্রাঙ্গণে সাধুসঙ্গের পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে লালন একাডেমি চত্বরে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও লোকসংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। আলোচনা সভা শেষে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মূল মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে দেশবরেণ্য বাউল শিল্পীদের লালন সংগীত। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ছেউড়িয়া এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিয়েটিভ প্রোডাকশন হাউস 'ড্রিমমেকার এন্টারটেইনমেন্ট'-এর ব্যানারে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ওস্তাদ জানু খাঁ ও মাসুদ করিমের নতুন মৌলিক মিউজিক ভিডিও "আলো আঁধারি"। উপমহাদেশের বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ওস্তাদ জানু খাঁর সুমধুর কণ্ঠে গাওয়া এ গানটির কথা, সুর ও সিনেমাটিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন শিল্পী ও নির্মাতা মাসুদ করিম।বর্তমান দ্রুতগতির বাণিজ্যিক গানের ভিড়ে "আলো আঁধারি" শ্রোতাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ক্লাসিক্যাল ও আত্মোপলব্ধির এক গভীর মেলোডিয়াসের আবহে । সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েন, মনের ভেতরের না-বলা বেদনা এবং মানুষের জীবনের আলো ও আঁধারের লুকোচুরি খেলাকে কেন্দ্র করে গানটি সাজানো হয়েছে ।গানটি প্রসঙ্গে গীতিকার ও নির্মাতা মাসুদ করিম বলেন, সম্পর্কের আলো-আঁধারি ও নীরব ভুল বোঝাবুঝির মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন থেকেই গানটির জন্ম। ওস্তাদ জানু খাঁর কালজয়ী গায়কী এতে এক অনন্য পূর্ণতা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল ও সিনেমাটোগ্রাফির মাধ্যমে নির্মিত এই মিউজিক ভিডিওটিতে একাকীত্ব ও সম্পর্কের অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।